সিলেটের বিশ্বনাথে চতুর্থ মেরিট কেয়ার মেধাবৃত্তি ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও মেরিট কেয়ার মেধাবৃত্তির পৃষ্টপোষক হাজী রইছ আলী।
অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেছেন, মেধা বৃত্তি কোনো অনুদান নয়, এটি মেধার স্বীকৃতি। এই বৃত্তি প্রমাণ করে যে পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সৎ প্রচেষ্টা কখনোই বৃথা যায় না। একজন শিক্ষার্থীর জীবনে মেধা বৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। মেধা বৃত্তি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, সৃজনশীল চিন্তা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি পরিবার ও সমাজকে আশাবাদী করে তোলে এবং জাতির জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।
তারা আরো বলেন, আমরা চাই, মেধা বৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলাফলই অর্জন করবে না, বরং ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের জ্ঞান ও যোগ্যতা কাজে লাগাবে। মেধাকে সম্মান জানানোই হোক আমাদের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।
বক্তারা বলেন, অনেক শিক্ষার্থী আছে, যাদের মেধা আছে কিন্তু সুযোগ সীমিত। বৃত্তি সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেয়। এটি আমাদের শেখায় নিয়মিত পড়াশোনা, সততা ও অধ্যবসায়ের মূল্য কতটা বড়।
মেরিট কেয়ার স্কুল এন্ড কলেজ’র প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোঃ মনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক মাহমুদুল হাসান’র পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. আব্দুল হাই, লার্ণিং পয়েন্ট বিশ্বনাথের প্রতিষ্ঠাতা মো. মঈন উদ্দিন, বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল মুন্না, ডা. সিরাজুল ইসলাম হীরা, কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাসেল হাসান বখ্ত, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গোবিন্দ মালাকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেরিট কেয়ার স্কুল এন্ড কলেজ ভাইস প্রিন্সিপাল কাজল কুমার দেব।
মেরিট কেয়ার মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার মোট ১২১ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে ট্যালেন্টপুল ৩জন, সাধারণ বৃত্তি ৪০জন ও বিশেষভাবে ৭৮জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
এদিকে, সেরা ছাত্রবন্ধু শিক্ষক হিসেবে কাজল কুমার দেবকে, সেরা অলরাউন্ডার শিক্ষক হিসেবে মাহমুদুল হাসানকে ও সেরা শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে অন্জলি তফাদারকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। এছাড়াও মিসবাহ উদ্দিন লাভিব, হাবিবুর রশিদ ও ফাতেমাতুজ জোহরাকে সেরা শিক্ষার্থীর পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রতিষ্ঠানের ধর্ম বিষয়ক শিক্ষক আবিদ হাসন ও গীতা পাঠ করেদিশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী স্বাধীন বাইম।
পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









