সিলেটের বিশ্বনাথে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় পরিচয়ে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বিরোধকে দলীয় ইস্যুতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলেও জানিয়েছেন নেতারা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক তাৎক্ষণিক সভায় নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী বলেন, সম্প্রতি উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের ভুরকি ও ইসবপুর গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিশ্বনাথ পৌর শহরের একই স্থানে পৃথক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
প্রসাশনের এমন জানিয়ে গৌছ আলী আরো বলেন, বৃহস্পতিবারের এই কর্মসূচী বিষটি যেন সুন্দরভাবে সমাধান হয়। আর যদি কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় তাহলে জনগনের কাছে প্রসাশনকে জবাবদিহী করতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো এলাকার ব্যক্তিগত বা স্থানীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় ব্যানারে মানববন্ধন বা প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা বিএনপির জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
গৌছ আলী আরও বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কিংবা দলীয় পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের পদ-পদবি নেই এমন কেউ দলীয় নাম ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিনি দলের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত বিরোধ ও স্থানীয় বিষয়কে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে না জড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যেকোনো কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আবদুল হাই বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল কিংবা স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেউ কর্মসূচি দিলে তার দায় দল নেবে না।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় নেতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ঘটনা নিয়ে কর্মসূচি দেওয়ার আগে সাংগঠনিকভাবে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলামও দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
নেতারা বলেন, স্থানীয় কোনো বিরোধ বা বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় পরিচয়ের অপব্যবহার করলে সাংগঠনিকভাবে তা মোকাবিলা করা হবে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ও সংযত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
এসময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির অন্যান্য নেতৃবন্দ বক্তব্য রাখেন।
প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক 






