ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিশ্বনাথে দুইশ বছরের গ্রামীণ ঐতিহ্য ‘পলো বাওয়া’ উৎযাপন

  • কামাল মুন্না
  • আপডেট সময় ০৭:০৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

কুয়াশাচ্ছান্ন শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সিলেটের বিশ্বনাথের দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরী গ্রামের দক্ষিণের হাওর ‘গোয়াহরী বিলে’ ২শত বছরের ঐতিহ্যের বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব উদযাপন করা হয়েছে। প্রায় হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীন এই ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ ঠিকই ধরে রেখেছেন গোয়াহরী গ্রামবাসী। তবে বাংলা বছরের পহেলা মাঘ এই পলো বাওয়া উৎসব উদযাপন করা হলেও এবারে বিলে পানি কমে যাওযার কারণে নির্ধারিত সময়ের ১৩দিন আগেই তারা এ উৎসব পালন করেন। গোয়াহরী গ্রামের মানুষ তাদের পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য হিসাবে ২শ বছরের অধিককাল থেকে প্রতি বছর ওই পলো বাওয়া উৎসব পালন করে আসছেন। পলো বাওয়ার উৎসবে অংশ নিতে ওই এলাকার অনেক প্রবাসীরাও স্বপরিবারে দেশে চলে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এসেছেন প্রবাসীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের সেই ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব উদযাপন করেন এলাকাবাসী। এবছর বিপুল সংখ্যক লোক এই ‘পলো বাওয়া’ উৎসবে সমবেত হন। প্রতি বছর গোয়াহরী বিলে প্রচুর পরিমানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়লেও এবার বেশি মাছ ধরতে সম্ভব হয়নি। তবে বোয়াল, কাতলা, রুই, কার্প, সোলসহ বিভিন্ন ধরণের মাছ অনেকেই ধরতে পারলেও অনেকে খালি হাতে ফিরেছেন। কিন্তু উৎসবের কমতি ছিলোনা কারো মধ্যে।
উৎসবের দিন পলো আর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরার জাল নিয়ে ভোর থেকে বিলের পাড়ে গিয়ে লোকজন সমবেত হতে থাকেন। ওই এলাকার মানুষের পাশাপাশি পলো বাওয়া উৎসব উদযাপনে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ সেখানে গিয়ে ভিড় জমান এবং ঐতিহ্যের ‘পলো বাওয়া’ দেখে উপভোগ করেন।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল নুর, আব্দুল বারীসহ আরো অনেকে। হাজার ব্যবস্তার মাঝেও তারা প্রতিবছর এই উৎসব দেখতে আসেন। তাদের কাছে ওই মাছ ধরা আলাদা একটি আনন্দ উপহার দেয় বলে তারা জানান। দিনক্ষণ বদল হওয়ায় অনেকে প্রবাসীরা আসতে পারেন নি।

পলো বাওয়া দেখতে আসা যুক্তরাজ্য প্রবাসী তৈমুছ আলী (৮৫) বলেন, আমাদের বাপ দাদারা এই পলো বাওয়া উৎসব পালন করেছেন। গ্রামীন এই পলো বাওয়া যাতে হারিয়ে না যায় এজন্য নতুন প্রজন্মকে জানাতেই আমরাও আমাদের ছেলে-নাতীদের এই উৎসব উপভোগ করতে দেশে নিয়ে আসি।

পরে সময় হওয়ামাত্র ঘোষণা এলে একসাথে পলো আর জাল নিয়ে বিলে ঝাপিয়ে পড়েন আয়োজনকারী গ্রামবাসীর লোকজন। সোমবারও শুরু হয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ওই পলো বাওয়ার উৎসব। গোয়াহরী বিলে পলো বাওয়া উদযাপনে মেতে ওঠেন এলাকাবাসী। যেমন- রুই, কাতলা, মৃগেল, কার্পু, ঘনিয়া, গজার-শোল, বোয়াল, বিগ্রেড, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন জাতের মাছ। মাছ ধরা দেখতে বিলের পাড়ে শিশু থেকে শুরু করে নারী পুরুষ’সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ সমবেত হতে দেখা যায়।

দৌলতুপর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও গোয়াহরী গ্রামের গোলাম হোসেন মেম্বার বলেন, উপজেলার সবচে বড় এবং দুইশত বছর আগে থেকে প্রাচীন এই পলো বাওয়া উৎসব তাদের গোয়াহরী গ্রামবাসী পালন করেন। গ্রামবাসী মিলে ‘গোয়াহরী বিলে’ এই ‘পলো বাওয়া’র উৎসব আয়োজন করেন তারা। তবে এবারে পানি কমে গেছে আর অসাধু কিছু মানুষ রাতের আধারে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত সময়ের তেরদিন আগে পলো বাওয়ার কারন বলেও তিনি জানান।


প্রিন্ট

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা কর‌ছি: ভারতের হাইকমিশনার

বিশ্বনাথে দুইশ বছরের গ্রামীণ ঐতিহ্য ‘পলো বাওয়া’ উৎযাপন

আপডেট সময় ০৭:০৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

কুয়াশাচ্ছান্ন শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সিলেটের বিশ্বনাথের দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরী গ্রামের দক্ষিণের হাওর ‘গোয়াহরী বিলে’ ২শত বছরের ঐতিহ্যের বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব উদযাপন করা হয়েছে। প্রায় হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীন এই ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ ঠিকই ধরে রেখেছেন গোয়াহরী গ্রামবাসী। তবে বাংলা বছরের পহেলা মাঘ এই পলো বাওয়া উৎসব উদযাপন করা হলেও এবারে বিলে পানি কমে যাওযার কারণে নির্ধারিত সময়ের ১৩দিন আগেই তারা এ উৎসব পালন করেন। গোয়াহরী গ্রামের মানুষ তাদের পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য হিসাবে ২শ বছরের অধিককাল থেকে প্রতি বছর ওই পলো বাওয়া উৎসব পালন করে আসছেন। পলো বাওয়ার উৎসবে অংশ নিতে ওই এলাকার অনেক প্রবাসীরাও স্বপরিবারে দেশে চলে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এসেছেন প্রবাসীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের সেই ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব উদযাপন করেন এলাকাবাসী। এবছর বিপুল সংখ্যক লোক এই ‘পলো বাওয়া’ উৎসবে সমবেত হন। প্রতি বছর গোয়াহরী বিলে প্রচুর পরিমানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়লেও এবার বেশি মাছ ধরতে সম্ভব হয়নি। তবে বোয়াল, কাতলা, রুই, কার্প, সোলসহ বিভিন্ন ধরণের মাছ অনেকেই ধরতে পারলেও অনেকে খালি হাতে ফিরেছেন। কিন্তু উৎসবের কমতি ছিলোনা কারো মধ্যে।
উৎসবের দিন পলো আর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরার জাল নিয়ে ভোর থেকে বিলের পাড়ে গিয়ে লোকজন সমবেত হতে থাকেন। ওই এলাকার মানুষের পাশাপাশি পলো বাওয়া উৎসব উদযাপনে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ সেখানে গিয়ে ভিড় জমান এবং ঐতিহ্যের ‘পলো বাওয়া’ দেখে উপভোগ করেন।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল নুর, আব্দুল বারীসহ আরো অনেকে। হাজার ব্যবস্তার মাঝেও তারা প্রতিবছর এই উৎসব দেখতে আসেন। তাদের কাছে ওই মাছ ধরা আলাদা একটি আনন্দ উপহার দেয় বলে তারা জানান। দিনক্ষণ বদল হওয়ায় অনেকে প্রবাসীরা আসতে পারেন নি।

পলো বাওয়া দেখতে আসা যুক্তরাজ্য প্রবাসী তৈমুছ আলী (৮৫) বলেন, আমাদের বাপ দাদারা এই পলো বাওয়া উৎসব পালন করেছেন। গ্রামীন এই পলো বাওয়া যাতে হারিয়ে না যায় এজন্য নতুন প্রজন্মকে জানাতেই আমরাও আমাদের ছেলে-নাতীদের এই উৎসব উপভোগ করতে দেশে নিয়ে আসি।

পরে সময় হওয়ামাত্র ঘোষণা এলে একসাথে পলো আর জাল নিয়ে বিলে ঝাপিয়ে পড়েন আয়োজনকারী গ্রামবাসীর লোকজন। সোমবারও শুরু হয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ওই পলো বাওয়ার উৎসব। গোয়াহরী বিলে পলো বাওয়া উদযাপনে মেতে ওঠেন এলাকাবাসী। যেমন- রুই, কাতলা, মৃগেল, কার্পু, ঘনিয়া, গজার-শোল, বোয়াল, বিগ্রেড, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন জাতের মাছ। মাছ ধরা দেখতে বিলের পাড়ে শিশু থেকে শুরু করে নারী পুরুষ’সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ সমবেত হতে দেখা যায়।

দৌলতুপর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও গোয়াহরী গ্রামের গোলাম হোসেন মেম্বার বলেন, উপজেলার সবচে বড় এবং দুইশত বছর আগে থেকে প্রাচীন এই পলো বাওয়া উৎসব তাদের গোয়াহরী গ্রামবাসী পালন করেন। গ্রামবাসী মিলে ‘গোয়াহরী বিলে’ এই ‘পলো বাওয়া’র উৎসব আয়োজন করেন তারা। তবে এবারে পানি কমে গেছে আর অসাধু কিছু মানুষ রাতের আধারে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত সময়ের তেরদিন আগে পলো বাওয়ার কারন বলেও তিনি জানান।


প্রিন্ট